বরিশাল আদালতে ১৫ দিনের ভোকেশনাল ছুটি শুরু, বন্ধ ৪৭ কোর্টের কার্যক্রম
বরিশালসহ সারা দেশে দেওয়ানি আদালতে শুরু হলো ১৫ দিনের নতুন ভোকেশনাল ছুটি। নতুন নিয়মে জুন ও ডিসেম্বরে দুবার মিলবে এই ছুটি। বিস্তারিত জানুন দৈনিক শব্দমিছিলে।
মোঃ জিয়াউদ্দিন বাবু, বরিশাল থেকে (দৈনিক শব্দমিছিল)
পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি শেষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বরিশাল হয়ে ঢাকা এবং অন্যান্য বড় শহরমুখী মানুষের কর্মস্থলে ফেরার ঢল নেমেছে। ফলে দেশের প্রধান প্রধান মহাসড়ক, বাস টার্মিনাল ও নৌঘাটগুলোতে ব্যাপক যাত্রীসমাগম তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস ও লঞ্চে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গতকাল বিকেল ও রাতে লঞ্চঘাট এবং নগরীর দুটি বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা গেছে, ছুটি শেষে একযোগে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করায় পরিবহন খাতে ব্যাপক বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। যাত্রীদের অনেককে ব্যাগ, মালামাল ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দীর্ঘ সময় টার্মিনালে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। ঢাকাগামী যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে বরিশাল লঞ্চঘাট থেকে একযোগ ১২টি বিশালাকার লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।
বরিশালের রুপাতলী এবং নতুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীদের দীর্ঘ সারি এবং যানবাহনে ওঠার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই টার্মিনালে পৌঁছালেও দীর্ঘক্ষণ বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। বাস কাউন্টারগুলোতে টিকিট সংগ্রহ এবং যাত্রা সংক্রান্ত তথ্য জানতে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। পরিবহন কোম্পানিগুলো নিয়মিত বাসের পাশাপাশি অতিরিক্ত বাস পরিচালনা করলেও যাত্রীচাপ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
এই উপচে পড়া ভিড়ের সুযোগ নিয়ে দূরপাল্লার বাসগুলোতে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। যাত্রীদের অভিযোগ, কাউন্টার ও দূরপাল্লার পরিবহনে প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান নজরদারি না থাকায় বুকিং এজেন্টরা ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নৌরুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোতেও ছিল যাত্রীদের ব্যাপক উপস্থিতি। ঘাট এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যাত্রীদের ভিড় অব্যাহত ছিল। ডেক ও কেবিনের যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই ঘাটে এসে লঞ্চে অবস্থান নেন। বরিশাল নদী বন্দর ও বাস টার্মিনালগুলোতে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে ইতিমধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রী এবং বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি লঞ্চঘাট ও বাসস্ট্যান্ড এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
ভিড়ের কারণে পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে সবচেয়ে বেশি। তবে পরিবহন ব্যবস্থাপনা ও লঞ্চের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকায় অনেক যাত্রী স্বস্তিও প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা জানান, ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরার এই তীব্র বিপরীতমুখী চাপ মোকাবিলায় অতিরিক্ত ট্রিপ পরিচালনা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদেরও সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে।
ঈদ-পরবর্তী যাত্রার কারণে মহাসড়কগুলোতেও যানবাহনের চাপ ছিল তুলনামূলক বেশি। কোথাও বড় ধরনের দীর্ঘ যানজটের খবর না পাওয়া গেলেও, বিভিন্ন স্থানে ধীরগতির কারণে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ-পরবর্তী আরও কয়েক দিন পর্যন্ত কর্মজীবী মানুষের এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।