প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলে দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতের অঙ্গীকার করেছেন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে গত ১২ জুন দুবাইয়ের একটি বিপণিবিতান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুবাইয়ের সূত্রগুলো বলছে, প্রায় সপ্তাহ দুয়েক আগে বেনজীর দুবাইয়ে পৌঁছালে তাঁর সঙ্গে দ্বন্দ্ব থাকা সহযোগীরা সক্রিয় হয়ে ওঠেন。 মূলত আবাসন ও সোনার ব্যবসায় পাচার করা টাকার বিনিয়োগ এবং লেনদেন নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত।
দুবাই পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও সূত্র বলছে, বেনজীরের আবাসন ও স্বর্ণ ব্যবসায় দুবাইয়ে বড় বিনিয়োগ রয়েছে। দুবাইয়ে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় বা আগে থেকে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সহযোগিতা নিতে হয়। ধারণা করা হচ্ছে, যাদের সহযোগিতায় তিনি অর্থ লগ্নি করেছিলেন, তাঁদের সঙ্গেই তাঁর দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। ওই চক্রটিই দুবাই পুলিশকে বেনজীরের বিরুদ্ধে থাকা ইন্টারপোলের রেড নোটিশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত রোববার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার ই-মেইলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের খবরটি ঢাকাকে জানিয়েছে。 বেনজীরকে ফিরিয়ে আনতে গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক অনুরোধপত্র পাঠাতে হবে।
এদিকে, বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও অনুরোধপত্র প্রস্তুতের কাজ শেষ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার অনুরোধপত্রটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে দুবাই সরকারের কাছে যাবে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এই প্রতাপশালী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বর্তমানে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে।
ইন্টারপোলের তালিকায় বর্তমানে ৫৯ জন বাংলাদেশির নাম থাকলেও রেড নোটিশের মাধ্যমে আসামি ফিরিয়ে আনার নজির খুব বেশি নয়। তবে বাংলাদেশের পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা মনে করেন, শুধু রেড নোটিশ নয়, বরং এর নেপথ্যে প্রভাবশালী কারও সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে একটি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়েছে।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা বেনজীর আহমেদ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন। বর্তমানে দুবাই পুলিশের হাতে আটক এই সাবেক আইজিপিকে ৩০ দিনের সময়সীমার মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।