সম্পর্ক চেয়েছিল, কিন্তু দায়িত্ব নিতে চায়নি’ বাদশাহকে নিয়ে ঈশার ইঙ্গিত
‘বিগ বস ২০’-এ নিজের ভাঙা সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেত্রী ঈশা রিখী। শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক প্রতারণার মুখে পড়ার কথা জানিয়ে সাবেক সঙ্গী সম্পর্কে বিস্ফোরক ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বিনোদন: প্রেম, ধর্ম, বিয়ে ও সম্পর্কের দায়িত্ববোধ—সবকিছুকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে পাকিস্তানি ধারাবাহিক ‘দার-ই-নিজাত’। নাটকটির ১৩তম পর্বে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে ধর্মীয় জীবনে নতুনভাবে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জামিল চরিত্রটি। এরপর সাবেক প্রেমিকা জারিয়াবের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শকদের মধ্যে আলোচনা তৈরি করেছে।
নাটকে জামিল চরিত্রে অভিনয় করেছেন নামির খান। জারিয়াবের ভূমিকায় রয়েছেন দুরেফিশান সেলিম। ১৩তম পর্ব সম্প্রচারের পর মূলত এই দুই চরিত্রের সম্পর্কের পরিণতিই দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
গল্পে দেখা যায়, জামিল ও জারিয়াব বহু বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। শৈশবের এই সম্পর্ক একসময় আরও গভীর হয়। এমনকি কিছুদিন একসঙ্গে থাকার পরও হঠাৎ জারিয়াবকে ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জামিল।
এরপর জামিল ধর্মীয় জীবনে নতুন করে ফিরে আসেন এবং একটি মাদ্রাসায় পরিচিত এক নারীর সঙ্গে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের আগে কিংবা এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় জারিয়াবকে কিছু জানাননি তিনি।
বিষয়টি জানতে পেরে উত্তর খুঁজতে জামিলের বাড়িতে হাজির হন জারিয়াব।
জামিল ও জারিয়াবের সেই কথোপকথনই হয়ে ওঠে পর্বটির অন্যতম আলোচিত অংশ। আবেগপ্রবণ জারিয়াবের সামনে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জামিল তাঁদের অতীত সম্পর্ককে তাঁর ‘অজ্ঞতার সময়’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
জামিল বলেন, ‘আমি তোমার সঙ্গে যে সময় কাটিয়েছি, সেটা ছিল আমার অজ্ঞতার সময়। আমি সেসব পেছনে ফেলে এসেছি।’
নিজের নতুন জীবনসঙ্গী সম্পর্কে জামিলের বক্তব্য, এমন একজন মানুষ প্রয়োজন ছিল, যিনি তাঁর ধর্মীয় জীবনে সহযোগিতা করবেন এবং যিনি তাঁর ভাষায় ‘ধার্মিক, পবিত্র ও নিষ্পাপ’।
জামিল আরও বলেন, তাঁর মনে হয়েছে আল্লাহ তাঁর তওবা কবুল করেছেন এবং সেই তওবার ফল হিসেবেই নতুন জীবনসঙ্গীকে তাঁর জীবনে পেয়েছেন।
জামিলের সিদ্ধান্তের পর জারিয়াবকে নিজের মতো কাউকে বিয়ে করার পরামর্শ দেন তিনি। কিন্তু এই কথার পরও জারিয়াবের মনে থেকে যায় আরও বড় প্রশ্ন—একটি সম্পর্কের দায় কি শুধু একজনের?
গল্পের এই জায়গাতেই ধর্মীয় বিশ্বাস, বিয়ে, নারী-পুরুষের জন্য সামাজিক ও সম্পর্কগত ভিন্ন মানদণ্ড এবং অতীত সম্পর্কের প্রতি দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন সামনে আসে।
দর্শকদের একাংশ নাটকের এই ঘটনাকে শুধু প্রেম ভেঙে যাওয়ার গল্প হিসেবে দেখছেন না; বরং সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং অন্য একজন মানুষের প্রতি দায়িত্বের জটিল দ্বন্দ্ব হিসেবেও দেখছেন।
১৩তম পর্ব প্রচারের পর জামিল ও জারিয়াবের সম্পর্কের পরিণতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে জামিলের অতীত সম্পর্ককে ‘অজ্ঞতার সময়’ হিসেবে বর্ণনা এবং পরবর্তী বিয়ের সিদ্ধান্তের বিষয়টি দর্শকদের আলোচনায় এসেছে।
ধারাবাহিকটি এভাবেই প্রেমের গল্পের পাশাপাশি ধর্ম, ব্যক্তিগত বিশ্বাস, সম্পর্কের দায়বদ্ধতা এবং নারী-পুরুষের সামাজিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সামনে গল্প কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।