ভারতে থাকা দণ্ডপ্রাপ্তরা যেন অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পারে: মাহদী আমিন
ভারতে অবস্থানরত পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা যাতে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সহযোগিতা চেয়েছেন মাহদী আমিন।
টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের সখীপুরে মায়ের হাতে ছুরিকাঘাতে তিন বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির সাত বছর বয়সী সৎবোন গুরুতর আহত হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত মা আকলিমা বেগমকে (৩২) আটক করেছে।
বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুজিবনগর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম মো. আশরাফুল ইসলাম (৩ বছর ৪ মাস)। আহত সিদরাতুল মুনতাহাকে (৭) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত আশরাফুলের বাবা শাহীন মিয়া বলেন, ‘ওই ঘরেই আলাদা কক্ষে আমার বৃদ্ধ মা শুয়েছিল। বাচ্চাদের কান্না শুনে আমার মা ঘুম থেকে জেগে ঘরের দরজা খুলে দেন। গিয়ে দেখি দুই সন্তানকেই কুপিয়েছে আকলিমা। আকলিমা কীভাবে এটা পারল? নিজের সন্তানকে কি কেউ মেরে ফেলতে পারে?’
কথাগুলো বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শাহীন মিয়া।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে নাসিমা আক্তারকে বিয়ে করেন শাহীন মিয়া (৫০)। তাঁদের কোনো সন্তান না হওয়ায় নাসিমার সম্মতিতে প্রায় পাঁচ বছর আগে আকলিমাকে বিয়ে করেন তিনি। আকলিমার আগের ঘরের মেয়ে সিদরাতুল মুনতাহাকেও নিজের সংসারে নিয়ে আসেন শাহীন। বিয়ের প্রায় এক বছর পর আকলিমার ঘরে জন্ম নেয় আশরাফুল।
আশরাফুলের বয়স যখন প্রায় এক বছর, তখন আকলিমা ময়মনসিংহের ভালুকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। চাকরির কারণে মুনতাহা ও আশরাফুলকে বাড়িতে রেখে যান তিনি। এরপর বড় মা নাসিমার কাছেই দুই শিশু বড় হতে থাকে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আশরাফুল নাসিমাকে ‘মা’ বলে ডাকত।
তিন দিন আগে পোশাক কারখানা থেকে সাত দিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন আকলিমা। বুধবার রাতে আশরাফুল বড় মায়ের সঙ্গে থাকতে চাইলে এ নিয়ে নাসিমা ও আকলিমার মধ্যে বিরোধ হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। পরে আশরাফুল আকলিমার ঘরেই ছিল।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘুম থেকে উঠে আশরাফুল বড় মায়ের ঘরে যেতে চাইলে আকলিমা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ভাষ্য। একপর্যায়ে তিনি আশরাফুল ও মুনতাহাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করতে থাকেন বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর বাড়ির লোকজন আকলিমাকে আটক করেন। পরে তাঁকে বাড়ির উঠানে বেঁধে রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় লোকজন আহত দুই শিশুকে প্রথমে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুলকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত মুনতাহাকে পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহিনুর রহমান বলেন, দুই সন্তানকে ছুরি দিয়ে আঘাত করার পর আকলিমা নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাঁর বাঁ হাতে ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
নিহত আশরাফুলের বাবা শাহীন মিয়া এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজহারুল ইসলাম।